🌌 সব কৃষ্ণগহ্বর কি একরকম, নাকি এদেরও আলাদা ধরন আছে?
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও ভীতিকর বস্তুগুলোর একটি হলো কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল। একে অনেক সময় মহাকাশের অতল, তলাবিহীন কূপের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কারণ—একবার কিছু যদি কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে ঢুকে পড়ে, তাহলে আর কোনোভাবেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকে না।
কৃষ্ণগহ্বরের মহাকর্ষীয় টান এতটাই প্রবল যে গ্যাস, ধূলিকণা, গ্রহ কিংবা নক্ষত্র—সবকিছুই সেখানে চিরতরে হারিয়ে যায়। এমনকি মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতিসীমার অধিকারী আলোও কৃষ্ণগহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ অতিক্রম করতে পারে না। এই কারণেই কৃষ্ণগহ্বরকে সরাসরি চোখে দেখা অসম্ভব।
🔍 কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে কী ঘটে?
কৃষ্ণগহ্বরের অভ্যন্তরে পড়ে যাওয়া বস্তুর পরিণতি আজও বিজ্ঞানের কাছে এক গভীর রহস্য। বিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং একবার রসিকতা করে বলেছিলেন—
“আপনি যদি একটি টেলিভিশন সেট, হীরা বসানো আংটি কিংবা আপনার চরম শত্রুকেও ব্ল্যাকহোলে ছুড়ে ফেলেন, ব্ল্যাকহোল শুধু মনে রাখবে তার মোট ভর এবং ঘূর্ণনের অবস্থা।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, কৃষ্ণগহ্বর কতটা অদ্ভুত ও রহস্যময়।
🌀 সব কৃষ্ণগহ্বর কি একই রকম?
অনেকের ধারণা, সব কৃষ্ণগহ্বরই বুঝি এক ধরনের। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণগহ্বরকে তাদের ভর, উৎপত্তি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
⭐ স্টেলার-মাস ব্ল্যাকহোল
এ ধরনের কৃষ্ণগহ্বর তৈরি হয় কোনো বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে। যখন একটি বড় নক্ষত্র তার জ্বালানি শেষ করে ভয়াবহ বিস্ফোরণে (সুপারনোভা) ধ্বংস হয়ে যায়, তখন তার কেন্দ্রে জন্ম নেয় স্টেলার-মাস ব্ল্যাকহোল।
এদের ভর সাধারণত সূর্যের ভরের কয়েক গুণ থেকে কয়েক দশক গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
🌌 সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল
এরাই সবচেয়ে বিশাল ও শক্তিশালী কৃষ্ণগহ্বর। প্রায় প্রতিটি গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি করে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থাকে।
আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা ‘স্যাজিটারিয়াস A★’ এমনই একটি ব্ল্যাকহোল, যার ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি।
⚫ আরও সম্ভাব্য ধরন
বিজ্ঞানীরা আরও কিছু তাত্ত্বিক কৃষ্ণগহ্বরের কথাও বলেন, যেমন—
ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাকহোল
প্রাইমর্ডিয়াল ব্ল্যাকহোল (বিগ ব্যাংয়ের পরপরই সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে)
এগুলোর অনেকগুলো এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।
✨ উপসংহার
কৃষ্ণগহ্বর শুধু মহাকাশের ভয়ংকর বস্তুই নয়, বরং এটি আমাদের মহাবিশ্ব বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। সব কৃষ্ণগহ্বর একরকম নয়—ভর, আকার ও আচরণ অনুযায়ী তাদের মধ্যে রয়েছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। আর এই বৈচিত্র্যই মহাবিশ্বকে করে তুলেছে আরও রহস্যময় ও আকর্ষণীয়।


Post a Comment